নাস্তিকতা থেকে আস্তিকতায় ফিরে আসার বাণিজ্যিক গল্প! ZR TRICKBD


 

নাস্তিকতা থেকে আস্তিকতায় ফিরে আসার বাণিজ্যিক গল্প!


রকমারী অনলাইন বই বিক্রি সাইট ও ভর্তি কোচিং উদ্ভাসের সোহাগের ইন্টারভিউ অনেকের অনুরোধে দেখতে হয়েছে। আমার অনুমান যা ছিলো আমি সেটাই পেয়েছি। সোহাগের ফ্যামিলি বাঙালি মুসলমানদের জেনেটিক রোগ ‘ধর্মেও আছি জিরাফেও আছি’ –তে আক্রান্ত ছিলো। তার পরিবারের সবাই গান নাচ শিখত রীতিমত ওস্তাদ রেখে। তার বোনরা নাচ শিখত। সোহাগ নজরুলগীতি গাইত জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায়। এর পিছনে তার বাবা-মাই ছিলেন প্রধান পৃষ্ঠপোষক। আবার সোহাগকে তাবলীগে পাঠাতেন তার মা-ই। নামাজ পড়তে তাড়া দিতেন। গানের প্রতিযোগীতার পাশাপাশি আজান প্রতিযোগিতা যে পরিবারে চলত সে পরিবারের কোন ছেলে নাস্তিক হয়ে যাওয়াটা ব্যাখ্যা করা দরকার। সোহাগ এসএসসি ও এইচএসসিতে স্ট্রান্ড করা ছাত্র। এই লেভেলের ছাত্রদের মনের ভেতর এক সময় অহমিকা আত্মবিশ্বাস এমন পর্যায়ে চলে আসে সেটা না দেখলে আপনি বুঝতে পারবেন না। আমার এই লেবেলের বন্ধুবান্ধব অনেক ছিলো। অসাধারণ ছাত্র হওয়ার কারণে তারা এক সময় আল্লাকেও অবজ্ঞা করতে থাকে। এটা নাস্তিকতা না। এটা্ প্রতিপক্ষ হয়ে উঠা। রাজা বাদশাহদের এমন অহং থাকত। নিজেদেরই ঈশ্বর ঘোষণা করত। সেটা কিছুতে নাস্তিকতা ছিলো না। সে বিশ্বাস করত তার প্রভাবে সব কিছু সম্ভব। অতি ভালো ছাত্রদের এই রোগ হয়। সবার হবে তা নয়। যার হয় একসময় সে ও অন্যদের কাছে এটাই নাস্তিকতা মনে হয়। কিন্তু নাস্তিক হতে হয় গভীর উপলব্ধি থেকে। ছাত্র বয়েসে অনেকে মার্কসবাদের পাল্লায় পড়ে শ্রেণীহীন সমাজ ও বস্তুবাদী চিন্তায় ধর্মকে বাতিল করে দেয়। এটাও কোন নাস্তিকতা আসলে না। এটা হচ্ছে একটা বাদ থেকে আরেকটা বাদকে বাতিল করার মত। আগে সে আল্লাবাদী ছিলো পারিবারিক ও জন্মগত কারণে। পরে সেটা মার্কসবাদী হয়েছিলো। একটা পর্যায়ে মার্কসবাদে টান পড়লে আল্লাবাদে ফিরে আসে। আরেকটা জিনিস খেয়াল করবেন, যারা নাস্তিক থেকে আস্তিক হওয়ার দাবী করে তারা সবাই নিজেদের পারিবারিক ধর্মেই ফিরে আসে। কেন? সে যদি নাস্তিক থেকে আস্তিক হয় তাহলে তো তাকে ঈশ্বর খুঁজতে হবে একটা নিরপেক্ষ ভূমি থেকে। ঈশ্বর মনে করুন আছে, মনে করেন তিনি ধর্মও পাঠিয়েছেন, কিন্তু সেটা যে আপনার ধর্ম তার কোন গ্যারান্টি তো নেই!

যদি গৌতম বুদ্ধের জীবনী পড়েন তিনি বাল্যেই বুঝে গিয়েছিলেন এই জগত প্রতিনিয়ত নিষ্ঠুরতার উপর চলছে যা কিনা কোন ঈশ্বরের তৈরি হতে পারে না। তিনি দেখেছেন তাদের ক্ষেতের মাঠে লাঙ্গল চালানোর সময় মাটি ফুড়ে পোকামাড়দের বসতি সন্তান সঞ্চয় সমস্ত তছনছ হয়ে যাচ্ছে। আর এভাবেই তাদের ফসল ফলবে যা থেকে তারা খেয়েপরে বেঁচে থাকবে। এখানে সৃষ্টির প্রতি কোন ন্যায় বিচার নেই। অন্যকে প্রতিনিয়ত শেষ করে অপর বাঁচছে। প্রাকৃতিক এই চেইন সিস্টেম কোন দয়ালু ঈশ্বরের থাকতে পারে না। এই গভীর সত্য বুদ্ধ কোন বোর্ডের মেধাতালিকায় ফাস্ট হয়ে ভাবেননি। বুয়েটের ফাস্টবয় হয়েও ভাবেননি। কৃষক আরজ আলী মাতুব্ব কোন স্কুল কলেজের মেধাবী ছিলেন না। ধার্মিক চিরকাল স্বার্থপর ও নিজেকে ভাগ্যবান মনে করে। সোহাগ যেমন ইন্টারভিউতে বারবার বলেছিলো তার রেজাল্ট অন্যদের থেকে ভালো হওয়াটা আল্লার বিশেষ পক্ষপাতিত্ব (রহমত) ছিলো। তার মানে তিনি (আল্লা) অন্যদের বঞ্চিত করেছিলেন? যেমন লঞ্চ দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে বললেন আল্লার রহমতে (পক্ষপাতিত্বে) আপনি বেঁচে এসেছেন। তাহলে যে একশো জন মরল তাদের প্রতি তিনি (আল্লা) বিশেষ ব্যবস্থা নেননি! কেন এই স্বার্থপরের মত চিন্তা? আস্তিকের পৃথিবী এই রকমই নিষ্ঠুর অমানবিক…।

রকমারী ডট কমের সোহাগের আস্তিকতাকে ফলাও করে প্রচার করার অনেকগুলি দিক। ইউটিউব থেকে টাকা কামাই করতে এটা এদেশে দর্শকফুল টপিক। প্রতি বছর পৃথিবীতে কয়েক মিলিয়ন মানুষ ইসলাম ধর্ম ত্যাগ করে। সেসব বিষয় নিয়ে ভিডিও বানালে সেই ইউটিউব চ্যানেল রিপোর্ট খেয়ে খেয়ে ভিউ কমে যাবে! সোহাগের  দ্বিনের পথে ফিরে আসার কোন রকম যুক্তি কোন রকম বৈজ্ঞানিক বার্তা সোহাগ বলতে পারেননি। কেবল তাকে এই পথে ফিরে আসার পিছনে আল্লার পক্ষপাতিত্ব (রহমত)-কে সে দায়ী করেছে। উড়তি বয়েসে তাই কোন বিদ্যা হজম না করে সেটাকে নিজের আইডেন্টি বলে জাহির না করাই ভালো। বিদ্যা হজম করতে হয়। নাস্তিকতা গভীর চিন্তা দিয়ে জগতকে বুঝতে হয় প্রথমে। তারপর ধর্ম নিয়ে একাডেমিক পড়াশোনা, মানব সভ্যতার ক্রমবিকাশ, বিজ্ঞান, দর্শন, ইতিহাস অধ্যায়ন, তারপরও জেনেটিকভাবে পেয়ে আসা ধর্মীয় ঐতিহ্য বিশ্বাসকে ঝেটিয়ে বিদায় করা, নাস্তিক হয়েও কেউ কেউ ধর্মীয় পরিচয়ে জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী থাকে- বাপরে কত প্যাঁচ! ইউভাল নোয়া হারিরি মত হতে হলে একজন মানুষকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হতে হবে তা নয়। কিন্তু পথটা অনেক দীর্ঘ ও অধ্যবসায়ের।


Previous Post Next Post

Fashion & Beauty

Finance